বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন ও ভারতের নিশ্চুপতা

সেই ১৯৪৭ সালের আগ থেকেই বাংলাদেশে অবনর্নীয় ও অমানবিক হিন্দু নির্যাতন হয়ে আসছে। সেই সময় থেকেই এই দেশের শাসকগন কখনোই আমাদের হিন্দুদের নির্যাতনে সরব হয় নাই। তারা ভেবেছেন চুপ করে থাকলেই সব সমাধান। সোজা কথায় বলা যায় তারা ভেবেছে, নিজে বাঁচলে বাপের নাম। কিন্তু মনে রাখতে হবে পাশের বাড়ি আগুন লাগলে, নিজের অট্টালিকাটাও নিরাপদ নয়।

এদেশের রাজনীতিতেও দেখেছি শুধুমাত্র ক্ষমতার ভোগ দখল করতে বছরের পর বছর জিহাদি মুসলিমদেরকে হিন্দুদের উপর আক্রমন করিয়েছে। বিশেষ করে যে সকল তথা কথিত সেকুলার দল গুলো আছে। হিন্দু সাধুদের হত্যা করেছে, হিন্দুদের দাবী গুলোকে গুড়িয়ে দিয়েছে, সংষ্কৃতি ধ্বংস করেছে, বিভিন্ন দেব-দেবীদের নিয়ে কুৎসা রটিয়েছে এবং এই শ্রেনীর লোকেরাই রাষ্টিয় ভাবে সম্মানিত হয়েছেন। হিন্দুদেরকে নিয়ে কুৎসা রটানো ও হিন্দু হেয় যেন তথা কথিত প্রগ্রেসিভ ব্যক্তি।

তখনকার দিনে যত আইন পার্লামেন্টে পাশ হয়েছে তার বেশীর ভাগই হিন্দু বিরোধী। এমন কী মন্দির গুলো পর্যন্ত তাদের দখলে। হিন্দুরা মন্দিরে দান করতে পারবে কিন্তু তা খরচ করার ক্ষমতা নাকি হিন্দুদের নেই। ভাবুন যে ধর্ম সৃষ্টির লগ্ন থেকে বিদ্যমান এবং তারা বহু প্রতিষ্ঠান করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অখন্ড সেবা করে যাচ্ছে তারাই নাকি মন্দির পরিচালনা করতে পারবে না। তার মানে পরিষ্কার হিন্দুদেরকে আর্থিক ভাবে পুংগ করো যাতে করে তারা তাদের ধর্ম প্রচার ও প্রসার করতে না পারে। অর্থাৎ দ্বিজাতির তত্ত্বে দেশ ভাগ হয়ে যেটি হিন্দুরা পেল সেই ভুমিতেও আমরা অপেয়। যেন হিন্দুদের একটি স্বাধীন দেশ থাকাও অপরাধ।

মানুষ বহু আশা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে ( বিজেপি ) ভোট দিয়েছিল, যাতে করে হিন্দুরা স্বাধিন ভাবে তারা তাদের ধর্ম পালন করতে পারে এবং পৃথিবীর সকল হিন্দুদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারে। কিন্তু তাতেও কী কোন লাভ হচ্ছে। হ্যাঁ হয়তো বা আগের চেয়ে হিন্দুরা কিছুটা ভালো আছে, কিন্তু এখনও আমাদের আশা-আকাঙ্খার তেমন প্রতিফলন ঘটে নাই। মোদি কে দিয়ে হয়তো আর বেশী এগুনো যাবে না, এবার শুধু যোগির উপরই আশা বা আমরা সাধারন হিন্দু আস্থা রাখছি। জানি না কী হবে ? কারণ আগুনে পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।

যত দিন না ভারতে হিন্দুদের আধিপত্য না আসবে ততো দিন বাংলাদেশের ও পৃথিবীর অন্যান হিন্দুদের কোন উপকারে ভারত আসতে পারবে না। আমাদের সকল আশা ও আকঙ্খা অঙ্কুরেই বিনাশ হবে। মনে রাখতে হবে নিজে শক্ত ও সামর্থবান হলে তবেই অপরের মঙ্গল করা সম্ভব।

তবে শুধু এই টুকুই বলবো যে, যাকে আমরা হিন্দুত্ব বাদী সরকার মনে করে বিজয়ী করেছিলাম তার এমন নপুংসতা সত্যই আমাদেরকে হতাশ করেছে। আমরা হিন্দুত্ববাদী বলিষ্ট শাসক চাই যারা পুরুষের মতো নির্যাতীত পৃথিবীর সকল হিন্দুদের পাশে দাঁড়াবে। আমরা অধীর আগ্রহে সেই অপেক্ষায় রইলাম।

ওম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top